বোরন বোঝা: একটি মেটালয়েড মৌল
বোরন (B) একটি রাসায়নিক মৌল যার পারমাণবিক সংখ্যা ৫। পর্যায় সারণীতে এর অবস্থান, যা ধাতু এবং অধাতুর মধ্যবর্তী রেখায় অবস্থিত, এটিকে একটি মেটালয়েড হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করে। এর অর্থ হল এটি ধাতু এবং অধাতু উভয়ের কিছু বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে।
বোরনের ভৌত বৈশিষ্ট্য
বোরন বিভিন্ন অ্যালোট্রপিক রূপে বিদ্যমান, যা একই মৌলের বিভিন্ন কাঠামোগত বিন্যাস। সবচেয়ে সাধারণ রূপগুলি হল অ্যামোরফাস বোরন এবং স্ফটিকাকার বোরন, যার প্রতিটি স্বতন্ত্র ভৌত বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে।
ঘরের তাপমাত্রায় অবস্থা
সাধারণ ঘরের তাপমাত্রায় (প্রায় ২৫ °সে), বোরন একটি কঠিন পদার্থ হিসেবে বিদ্যমান থাকে।
রং এবং চেহারা
বোরনের রং এর রূপের উপর নির্ভর করে:
- অ্যামোরফাস বোরন: এই রূপটি গাঢ় বাদামী গুঁড়ো হিসাবে দেখা যায়।
- স্ফটিকাকার বোরন: এই রূপটি সাধারণত কালো এবং এর একটি ধাতব উজ্জ্বলতা রয়েছে।
গঠন এবং কাঠিন্য
স্ফটিকাকার বোরন তার চরম কাঠিন্যের জন্য পরিচিত, যা কার্বনের (এর হীরক রূপে) পরে এটিকে অন্যতম কঠিন মৌল বানিয়েছে। এটি খুব ভঙ্গুরও। এই কাঠিন্য এটিকে নির্দিষ্ট উচ্চ-শক্তির উপকরণে ব্যবহার করতে সহায়তা করে। অ্যামোরফাস বোরন, গুঁড়ো হওয়ায়, একই কঠিন, ভঙ্গুর গঠন প্রদর্শন করে না।
গলনাঙ্ক এবং স্ফুটনাঙ্ক
বোরনের উল্লেখযোগ্যভাবে উচ্চ গলনাঙ্ক এবং স্ফুটনাঙ্ক রয়েছে, যা এর কাঠামোর মধ্যে থাকা শক্তিশালী সমযোজী বন্ধনকে প্রতিফলিত করে।
- গলনাঙ্ক: প্রায় ২০৭৫ °সে
- স্ফুটনাঙ্ক: প্রায় ৪০০০ °সে
এই উচ্চ তাপমাত্রা নির্দেশ করে যে এর কাঠামোর মধ্যে থাকা শক্তিশালী সমযোজী বন্ধন ভাঙতে যথেষ্ট পরিমাণে শক্তির প্রয়োজন।
ভারতে প্রয়োগ
যদিও এটি সরাসরি ভৌত বৈশিষ্ট্য নয়, তবে এর ব্যবহার বোঝা একটি প্রেক্ষাপট তৈরি করে। বোরন যৌগ, যেমন বোর্যাক্স, ভারতের বিভিন্ন শিল্প ও পরিবারে ব্যবহৃত হয়। বোর্যাক্স ধাতুবিদ্যায় ফ্লাক্স হিসেবে, কিছু ডিটারজেন্টের উপাদান হিসেবে, এবং বোরোসিলিকেট কাঁচ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়, যা এর তাপ-প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্যের জন্য ভারতীয় পরীক্ষাগার এবং রান্নাঘরে প্রচলিত। বোরন উদ্ভিদের জন্য একটি অপরিহার্য মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট এবং তাই ভারতীয় কৃষিতে ব্যবহৃত কিছু কৃষি সারে এটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।