ক্যাডমিয়াম (Cd)
ক্যাডমিয়ামের সংক্ষিপ্তসার
ক্যাডমিয়াম একটি নরম, রূপালী-নীল ধাতু যা মানুষ এবং পরিবেশের জন্য অত্যন্ত বিষাক্ত। এর স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণে, অনেক শিল্পে ক্যাডমিয়ামের ব্যবহার সীমিত করা হয়েছে। তবে, এর অনন্য রাসায়নিক এবং ভৌত বৈশিষ্ট্যগুলি এখনও ব্যাটারি থেকে পারমাণবিক প্রযুক্তি পর্যন্ত বিশেষায়িত প্রয়োগে এটিকে মূল্যবান করে তোলে।
ক্যাডমিয়ামের ব্যবহার
নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ সত্ত্বেও, শিল্পে ক্যাডমিয়াম ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে:
ব্যাটারি: ক্যাডমিয়াম উৎপাদনের প্রায় 80% নিকেল-ক্যাডমিয়াম (NiCd) রিচার্জেবল ব্যাটারিতে যায়, যদিও এগুলি ক্রমবর্ধমানভাবে নিরাপদ বিকল্প দ্বারা প্রতিস্থাপিত হচ্ছে।
ক্ষয় সুরক্ষা: ক্যাডমিয়াম আবরণ ইস্পাত এবং অন্যান্য ধাতুকে মরিচা থেকে রক্ষা করে, বিশেষ করে বিমানের যন্ত্রাংশ এবং অফশোর কাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলিতে।
পারমাণবিক চুল্লি: ক্যাডমিয়াম একটি চমৎকার নিউট্রন শোষক এবং পারমাণবিক বিভাজন নিয়ন্ত্রণ করতে নিয়ন্ত্রণ রডে ব্যবহৃত হয়।
রঙ্গক: ক্যাডমিয়াম যৌগগুলি একসময় উজ্জ্বল হলুদ, কমলা এবং লাল রঙ্গক তৈরি করত যা রঙ, প্লাস্টিক এবং সিরামিকগুলিতে ব্যবহৃত হত। বিষাক্ততার কারণে এদের ব্যবহার কমে গেছে।
ক্যাডমিয়ামের ইতিহাস
১৮১৭ – আবিষ্কার: জার্মান রসায়নবিদ ফ্রেডরিখ স্ট্রোমেয়ার জিংক কার্বনেটের বিবর্ণতা তদন্ত করার সময় ক্যাডমিয়াম আবিষ্কার করেন। তিনি অপবিত্রতাকে একটি নতুন উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করেন, যা তিনি জিংক আকরিকের জন্য একটি পুরাতন শব্দ ক্যাডমিয়ার নামে নামকরণ করেন।
১৮১৮ – স্বাধীন আবিষ্কার: জার্মান রসায়নবিদ কার্ল মেইসনার এবং কার্ল কার্স্টেনও স্ট্রোমেয়ারের পরপরই স্বাধীনভাবে ক্যাডমিয়াম আবিষ্কার করেন।
ক্যাডমিয়ামের প্রাকৃতিক ঘটনা এবং উৎপাদন
ক্যাডমিয়াম একটি অপেক্ষাকৃত বিরল উপাদান এবং প্রকৃতিতে বিশুদ্ধ আকারে পাওয়া যায় না। পরিবর্তে, এটি জিংক আকরিকের একটি গৌণ উপাদান হিসেবে দেখা যায়, বিশেষ করে খনিজ গ্রিনকাইট (CdS) তে। বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত প্রায় সমস্ত ক্যাডমিয়াম জিংক পরিশোধনের উপজাত হিসেবে পাওয়া যায়।
ক্যাডমিয়ামের জৈবিক ভূমিকা
ক্যাডমিয়ামের কোনও জৈবিক ভূমিকা জানা নেই এবং এটি অত্যন্ত বিষাক্ত বলে বিবেচিত হয়। এটি মানুষ সহ জীবন্ত প্রাণীর মধ্যে জমা হয়, যেখানে এটি কিডনি, হাড় এবং শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। ক্যাডমিয়াম একটি সন্দেহভাজন কার্সিনোজেন এবং দীর্ঘক্ষণ এর সংস্পর্শে থাকলে জন্মগত ত্রুটিও দেখা দিতে পারে।