ক্যাডমিয়ামের পরিচিতি: রূপালী মৌল
ক্যাডমিয়াম, যার রাসায়নিক প্রতীক Cd এবং পারমাণবিক সংখ্যা ৪৮, একটি নরম, নমনীয়, প্রসারণশীল এবং রূপালী-সাদা ধাতু। এটি পর্যায় সারণীর ১২ নম্বর গ্রুপে জিঙ্ক এবং পারদের সাথে অবস্থিত। এর বিশুদ্ধ রূপে, ক্যাডমিয়াম ছুরি দিয়ে সহজে কাটা যায়।
ক্যাডমিয়ামের আবিষ্কার
১৮১৭ সালে জার্মান রসায়নবিদ ফ্রেডরিখ স্ট্রোমেয়ার ক্যাডমিয়াম মৌলটি আবিষ্কার করেন। তিনি এটিকে জিঙ্ক কার্বনেটের (যা ক্যালামাইন নামেও পরিচিত) একটি অপদ্রব্য হিসেবে খুঁজে পেয়েছিলেন, যা ঔষধি উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছিল। সেই সময়ে, ফার্মাসিস্টরা সন্দেহ করেছিলেন যে ক্যালামাইনের কিছু ব্যাচ দূষিত ছিল কারণ উত্তপ্ত হলে সেগুলি হলুদ হয়ে যেত, যা বিশুদ্ধ জিঙ্ক কার্বনেটের সাধারণ বৈশিষ্ট্য নয়। স্ট্রোমেয়ার এই হলুদ-আভাযুক্ত নমুনাগুলি থেকে নতুন মৌলটি পৃথক করেন, এটিকে একটি স্বতন্ত্র ধাতব পদার্থ হিসাবে চিহ্নিত করেন।
নামের উৎস
“ক্যাডমিয়াম” নামটি ল্যাটিন শব্দ “cadmia” এবং প্রাচীন গ্রীক শব্দ “kadmeia” থেকে এসেছে, যা ক্যালামাইনকে নির্দেশ করে, যে আকরিক থেকে জিঙ্ক নিষ্কাশন করা হত। ক্যালামাইন প্রায়শই থিবেসের নিকটবর্তী গুহাগুলিতে পাওয়া যেত, একটি প্রাচীন গ্রীক শহর যা পৌরাণিক বীর ক্যাডমাস দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। এইভাবে, যে খনিজ থেকে এর আবিষ্কার হয়েছিল, সেই খনিজের নামানুসারে মৌলটির নামকরণ করা হয়।
ক্যাডমিয়াম সম্পর্কে কিছু দ্রুত তথ্য
- ক্যাডমিয়াম অত্যন্ত বিষাক্ত, এবং এর সংস্পর্শে, এমনকি অল্প পরিমাণেও, জীবন্ত প্রাণীর জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে।
- এটি প্রায়শই জিঙ্ক আকরিকের সাথে পাওয়া যায়, যেমন ভারতের কিছু অংশে রাজস্থানের মতো খনিগুলিতে, যেখানে বৃহৎ জিঙ্ক মজুত রয়েছে।
- ক্যাডমিয়াম যৌগগুলি উজ্জ্বল লাল, কমলা এবং হলুদ রঞ্জক পদার্থ তৈরির জন্য পরিচিত, যা ঐতিহাসিকভাবে রঙ এবং প্লাস্টিকে ব্যবহৃত হত, যদিও বিষাক্ততার কারণে এখন তাদের ব্যবহার সীমিত করা হয়েছে।
- ক্যাডমিয়ামের একটি উল্লেখযোগ্য প্রয়োগ হল নিকেল-ক্যাডমিয়াম (NiCd) রিচার্জেবল ব্যাটারি উৎপাদনে, যদিও পরিবেশগত উদ্বেগের কারণে এগুলির ব্যবহার ধীরে ধীরে বন্ধ করা হচ্ছে।
- ক্যাডমিয়াম নিউট্রন শোষণে চমৎকার, যা পারমাণবিক চুল্লিতে পারমাণবিক ফিশন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে এটিকে নিয়ন্ত্রণ দণ্ডে কার্যকর করে তোলে।