গ্যালিয়াম পরিচিতি: যে ধাতু হাতে গলে যায়
গ্যালিয়াম কী?
গ্যালিয়াম একটি আকর্ষণীয় রাসায়নিক মৌল, যার প্রতীক Ga এবং পারমাণবিক সংখ্যা 31। এটি একটি পোস্ট-ট্রানজিশন ধাতু হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়, যা কঠিন অবস্থায় নরম, রূপালী-সাদা পদার্থ হিসাবে দেখা যায়। গ্যালিয়ামের অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল এর অবিশ্বাস্যভাবে কম গলনাঙ্ক। যদিও বেশিরভাগ ধাতুকে তরলে পরিণত করতে খুব উচ্চ তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়, গ্যালিয়াম ঘরের তাপমাত্রার ঠিক উপরে গলে যায়, প্রায়শই হাতের তালুতে রাখলে তরল হয়ে যায়।
আবিষ্কার এবং নামকরণ
গ্যালিয়ামের অস্তিত্ব প্রথম ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন বিখ্যাত রুশ রসায়নবিদ দিমিত্রি মেন্ডেলিভ ১৮৭১ সালে। তিনি এটিকে “এক অ্যালুমিনিয়াম” নাম দিয়েছিলেন কারণ তিনি তার পর্যায় সারণীতে একটি শূন্যস্থান লক্ষ্য করেছিলেন এবং অ্যালুমিনিয়ামের নিচে এর অবস্থানের উপর ভিত্তি করে এর বৈশিষ্ট্যগুলি সঠিকভাবে অনুমান করেছিলেন। মাত্র চার বছর পর, ১৮৭৫ সালে, ফরাসি রসায়নবিদ পল-এমিল লেকক ডি বোইসবাউদ্রান স্পেকট্রোস্কোপি ব্যবহার করে সফলভাবে এই মৌলটি বিচ্ছিন্ন ও চিহ্নিত করেন। তিনি তার মাতৃভূমির সম্মানে নব-আবিষ্কৃত মৌলটির নাম দেন “গ্যালিয়াম”, কারণ “গ্যালিয়া” হল ফ্রান্সের ল্যাটিন শব্দ।
গ্যালিয়াম সম্পর্কে কিছু দ্রুত তথ্য
- গ্যালিয়ামের গলনাঙ্ক অত্যন্ত কম, প্রায় ২৯.৭৬ °C, যার অর্থ মানুষের হাতের উষ্ণতায় রাখলে এটি গলে যাবে।
- এটি উন্নত সেমিকন্ডাক্টরগুলির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা আধুনিক স্মার্টফোন, কম্পিউটার এবং ভারত জুড়ে বাড়িঘর ও রাস্তার বাতিতে ব্যবহৃত উজ্জ্বল এলইডি আলোর মতো ইলেকট্রনিক ডিভাইসের জন্য অত্যাবশ্যক।
- গ্যালিয়াম গ্যালিনস্টান (গ্যালিয়াম, ইন্ডিয়াম, টিন) নামক সংকর ধাতুর একটি উপাদান, যা ঘরের তাপমাত্রায় একটি অ-বিষাক্ত তরল এবং কখনও কখনও থার্মোমিটারে পারদের বিকল্প হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
- যদিও প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় না, তবে অ্যালুমিনিয়ামের একটি প্রাথমিক উৎস বক্সাইট আকরিকের মধ্যে গ্যালিয়াম অল্প পরিমাণে পাওয়া যায়, যা ভারতের ওড়িশা এবং অন্ধ্রপ্রদেশের মতো অঞ্চলে খনন করা হয়।
- এর কম গলনাঙ্ক সত্ত্বেও, গ্যালিয়ামের স্ফুটনাঙ্ক খুব উচ্চ, প্রায় ২২০৪ °C, যা এটিকে নির্দিষ্ট উচ্চ-তাপমাত্রার অ্যাপ্লিকেশনগুলিতে কার্যকর করে তোলে।