জার্মেনিয়াম পরিচিতি
জার্মেনিয়াম (Ge) হল একটি রাসায়নিক মৌল যার পারমাণবিক সংখ্যা 32। এটি পর্যায় সারণীর 14 নম্বর গ্রুপে সিলিকন ও টিনের মধ্যে অবস্থিত। 1886 সালে ক্লেমেন্স উইঙ্কলার এটি আবিষ্কার করেন। দিমিত্রি মেন্ডেলিভ তাঁর পর্যায়ক্রমিক সূত্র অনুসারে এর অস্তিত্ব এবং বৈশিষ্ট্যগুলির ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এমন কয়েকটি মৌলের মধ্যে এটি অন্যতম ছিল।
শ্রেণীবিন্যাস
জার্মেনিয়ামকে একটি ধাতুসদৃশ মৌল হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে। ধাতুসদৃশ মৌলগুলি ধাতু এবং অধাতু উভয়ের মধ্যবর্তী বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে। উদাহরণস্বরূপ, জার্মেনিয়াম একটি অর্ধপরিবাহী, যার অর্থ এটি নির্দিষ্ট কিছু শর্তে বিদ্যুৎ পরিবহন করে, যা ধাতুর থেকে ভিন্ন, যা সাধারণত ভালো পরিবাহী, অথবা অধাতুর থেকে ভিন্ন, যা সাধারণত অন্তরক। এই অর্ধপরিবাহী বৈশিষ্ট্যটি ইলেকট্রনিক্সে এর প্রয়োগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সিলিকনের মতোই, যা বিশ্বজুড়ে, ভারত সহ বিভিন্ন উৎপাদন কেন্দ্রে, ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট তৈরিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
শারীরিক চেহারা এবং অবস্থা
রং
বিশুদ্ধ জার্মেনিয়াম সাধারণত একটি উজ্জ্বল, ধূসর-সাদা কঠিন পদার্থ হিসাবে দেখা যায়। এটি একটি ধাতব আভা ধারণ করে, যা এটিকে ধাতুসদৃশ হিসাবে আখ্যায়িত করার কারণ।
গঠন
এই মৌলটি তার ভঙ্গুর প্রকৃতির জন্য পরিচিত। যখন এটি কঠিন অবস্থায় থাকে, তখন এটি চাপের মধ্যে প্লাস্টিকভাবে বিকৃত না হয়ে ভেঙে যেতে পারে, যা অনেক ধাতুসদৃশ এবং কিছু ধাতুর মধ্যে প্রায়শই দেখা যায়।
ঘরের তাপমাত্রায় পদার্থের অবস্থা
প্রমাণ কক্ষ তাপমাত্রায় (প্রায় 25°C), জার্মেনিয়াম একটি কঠিন পদার্থ হিসাবে বিদ্যমান থাকে।
তাপীয় বৈশিষ্ট্য
গলনাঙ্ক
জার্মেনিয়ামের গলনাঙ্ক প্রায় 938.2 °C। এই তুলনামূলকভাবে উচ্চ গলনাঙ্ক এটিকে বিভিন্ন উচ্চ-তাপমাত্রার ইলেকট্রনিক প্রয়োগে স্থিতিশীলতা প্রদানে সহায়তা করে।
স্ফুটনাঙ্ক
জার্মেনিয়ামের স্ফুটনাঙ্ক প্রায় 2833 °C। এই উল্লেখযোগ্যভাবে উচ্চ তাপমাত্রা বোঝায় যে আন্তঃপারমাণবিক শক্তিকে অতিক্রম করে তরল থেকে গ্যাসীয় অবস্থায় রূপান্তরের জন্য যথেষ্ট শক্তির প্রয়োজন হয়।