হাইড্রোজেন পরিচিতি
হাইড্রোজেন, যার রাসায়নিক প্রতীক ‘H’, মহাবিশ্বের সবচেয়ে হালকা এবং প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান রাসায়নিক মৌল। এর পারমাণবিক গঠন, যা একটি একক প্রোটন এবং সাধারণত একটি ইলেকট্রন নিয়ে গঠিত, এর অনেক মৌলিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে। যদিও এটি পৃথিবীতে একটি মুক্ত মৌল (H₂) হিসাবে খুব কমই পাওয়া যায়, তবে এটি জল, জৈব যৌগ এবং অনেক শিল্প রাসায়নিকের একটি সর্বব্যাপী উপাদান।
মৌলীয় শ্রেণীবিভাগ
হাইড্রোজেনকে একটি অধাতু হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে। পর্যায় সারণীর গ্রুপ ১-এ, ক্ষার ধাতুগুলির উপরে এর অবস্থান সত্ত্বেও, এটি ধাতব বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে না। এটিতে ধাতুর সাধারণ ধাতব দ্যুতি, নমনীয়তা, প্রসারণশীলতা এবং উচ্চ বৈদ্যুতিক পরিবাহিতা নেই। পরিবর্তে, এর বৈশিষ্ট্যগুলি অধাতব মৌলগুলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, বিশেষ করে এর সমযোজী বন্ধন গঠনের প্রবণতা।
ভৌত চেহারা এবং কক্ষ তাপমাত্রায় অবস্থা
প্রমিত কক্ষ তাপমাত্রায় (প্রায় ২৫ °C) এবং প্রমিত বায়ুমণ্ডলীয় চাপে, হাইড্রোজেন একটি গ্যাস হিসাবে বিদ্যমান থাকে। এটি সম্পূর্ণ বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং স্বাদহীন। একটি গ্যাস হিসাবে, এর কোন নির্দিষ্ট টেক্সচার নেই; এটি অদৃশ্য এবং মানুষের চোখে দেখা যায় না।
দশা রূপান্তর বিন্দু
হাইড্রোজেনের গলনাঙ্ক এবং স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত কম, যা এর H₂ অণুগুলির মধ্যে দুর্বল আন্তঃআণবিক শক্তি নির্দেশ করে। এটিকে তরল বা কঠিন অবস্থায় রূপান্তর করতে যথেষ্ট শীতলীকরণের প্রয়োজন।
গলনাঙ্ক
হাইড্রোজেনের গলনাঙ্ক প্রায় -২৫৯.১৬ °C। এই তাপমাত্রার নিচে, হাইড্রোজেন কঠিন অবস্থায় থাকে।
স্ফুটনাঙ্ক
হাইড্রোজেনের স্ফুটনাঙ্ক প্রায় -২৫২.৮৭ °C। এর গলনাঙ্ক এবং স্ফুটনাঙ্কের মধ্যবর্তী তাপমাত্রায় এটি তরল হিসাবে বিদ্যমান থাকে এবং এর স্ফুটনাঙ্কের উপরে এটি গ্যাস হিসাবে থাকে।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ভৌত বৈশিষ্ট্য
হাইড্রোজেন সমস্ত মৌলের মধ্যে সবচেয়ে কম ঘনত্বের। প্রমিত তাপমাত্রা ও চাপে, এর ঘনত্ব প্রায় ০.০৮৯৯ গ্রাম প্রতি লিটার, যা এটিকে বাতাসের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে হালকা করে তোলে। এই বৈশিষ্ট্যটি আবহাওয়া বেলুনের মতো অ্যাপ্লিকেশনগুলিতে ব্যবহার করা হয়, যদিও এর দাহ্যতা অন্যান্য প্লবতা-চালিত অ্যাপ্লিকেশনগুলিতে এর ব্যবহারকে সীমিত করে। হাইড্রোজেন জলে স্বল্প মাত্রায় দ্রবণীয়। এর ভৌত বৈশিষ্ট্য, বিশেষ করে এর গ্যাসীয় অবস্থা এবং কম ঘনত্ব, এর শিল্প ব্যবহারের জন্য মৌলিক, যার মধ্যে ভারতীয় কৃষিক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সারের জন্য অ্যামোনিয়া উৎপাদন এবং ভারতের ক্রমবর্ধমান শক্তি পরিস্থিতিতে একটি প্রতিশ্রুতিশীল পরিচ্ছন্ন শক্তি বাহক হিসাবে এর ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত।