নিহোনিয়াম এর পরিচিতি
নিহোনিয়াম (Nh) হলো একটি কৃত্রিম রাসায়নিক উপাদান যার পারমাণবিক সংখ্যা ১১৩। এটি একটি অতিভারী উপাদান, যার অর্থ এটি প্রাকৃতিকভাবে পৃথিবীতে পাওয়া যায় না এবং শুধুমাত্র বিশেষায়িত গবেষণাগারে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা যেতে পারে। এর নামকরণ করা হয়েছে “নিহন” থেকে, যা জাপানের দুটি জাপানি শব্দের মধ্যে একটি, এবং জাপানের RIKEN নিশিনা সেন্টার ফর অ্যাক্সেলারেটর-বেসড সায়েন্সের অবদানকে স্বীকৃতি দেয়, যেখানে এটি আবিষ্কৃত হয়েছিল।
ভৌত ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য
নিহোনিয়াম পর্যায় সারণীর ১৩ নং গ্রুপে অবস্থিত, থ্যালিয়ামের (Tl) ঠিক নিচে। এর অবস্থানের উপর ভিত্তি করে, এটি একটি p-ব্লক ট্রানস্যাক্টিনাইড উপাদান হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে নিহোনিয়াম ধাতব বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করবে এবং বোরন গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত হবে, যার মধ্যে অ্যালুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম এবং ইন্ডিয়ামের মতো উপাদান রয়েছে, যা ভারতের মতো দেশগুলিতে বিভিন্ন শিল্প প্রয়োগে সাধারণত ব্যবহৃত হয়।
তাত্ত্বিক গণনা অনুসারে, নিহোনিয়াম সম্ভবত +1 এবং +3 জারণ অবস্থায় বিদ্যমান থাকবে। আপেক্ষিক প্রভাবের কারণে, যা অত্যন্ত ভারী উপাদানগুলির জন্য ক্রমবর্ধমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে, থ্যালিয়ামের মতোই +1 জারণ অবস্থা +3 জারণ অবস্থার চেয়ে বেশি স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হয়। তবে, এর অত্যন্ত স্বল্প আয়ুষ্কালের কারণে, এই বৈশিষ্ট্যগুলি তাত্ত্বিক এবং কোনো সরাসরি পরীক্ষামূলক রাসায়নিক গবেষণা সম্ভব হয়নি।
জল ও বাতাসের সাথে বিক্রিয়াশীলতা
এর পরিচিত আইসোটোপগুলির অবিশ্বাস্যভাবে স্বল্প অর্ধায়ুর (মিলিসেকেন্ড থেকে সেকেন্ড পর্যন্ত) কারণে, নিহোনিয়াম পরমাণুগুলি এত অল্প সময়ের জন্য বিদ্যমান থাকে যে ম্যাক্রোস্কোপিক পরিমাণে জমা করা যায় না। ফলস্বরূপ, জল বা বাতাসের মতো সাধারণ পদার্থের সাথে এর বিক্রিয়া পরীক্ষামূলকভাবে পর্যবেক্ষণ বা পরিমাপ করা যায় না। এটি গঠনের পরপরই প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। যদি এটি স্থিতিশীল থাকত, তবে এর ধাতব প্রকৃতি এবং গ্রুপ ১৩-এর অবস্থান থেকে বোঝা যেত যে এটি বায়ু (একটি অক্সাইড গঠন করে) বা জলের সাথে প্রতিক্রিয়া করতে পারে, তবে এর অন্তর্নিহিত অস্থিরতার কারণে এটি সম্পূর্ণ অনুমানমূলক।
সুরক্ষা প্রোফাইল: বিষাক্ততা, তেজস্ক্রিয়তা এবং দাহ্যতা
নিহোনিয়ামের সমস্ত পরিচিত আইসোটোপ অত্যন্ত তেজস্ক্রিয়। এই চরম তেজস্ক্রিয়তাই এর সবচেয়ে বৈশিষ্ট্যসূচক এবং উপাদানটির সাথে জড়িত প্রধান বিপদ। নিহোনিয়াম নিউক্লিয়াস দ্রুত আলফা ক্ষয় বা স্বতঃস্ফূর্ত বিভাজন (spontaneous fission) এর মধ্য দিয়ে যায়, যা এটিকে হালকা উপাদানগুলিতে রূপান্তরিত করে।
নিহোনিয়ামের বিষাক্ততার ধারণাটি মূলত একাডেমিক। যদিও, অন্যান্য ভারী ধাতুর মতো, এটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে শরীরে প্রবেশ করলে বা শোষিত হলে তাত্ত্বিকভাবে বিষাক্ত হবে, তবে এর চরম অস্থিরতার অর্থ হল এই ধরনের সংস্পর্শ অসম্ভব। প্রধান উদ্বেগ হবে এর ক্ষয়প্রাপ্ত পরমাণু দ্বারা নির্গত বিকিরণ, এর রাসায়নিক বিষাক্ততা নয়।
নিহোনিয়ামকে দাহ্য বলে মনে করা হয় না। জৈব যৌগগুলির মতো ধাতুগুলি সাধারণত দাহ্যতা প্রদর্শন করে না। অক্সিজেনের সাথে যেকোনো সম্ভাব্য বিক্রিয়া হবে একটি জারণ প্রক্রিয়া, দহন নয়।
উল্লেখযোগ্য মিথস্ক্রিয়া বা “বিক্রিয়া”
এটি স্পষ্ট করা গুরুত্বপূর্ণ যে নিহোনিয়াম জড়িত কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া কখনও পর্যবেক্ষণ বা অধ্যয়ন করা হয়নি। উপাদানটির ক্ষণস্থায়ী অস্তিত্ব ইলেকট্রন পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে পরমাণুগুলির যৌগ গঠনের যেকোনো ধ্রুপদী রাসায়নিক পরীক্ষা প্রতিরোধ করে।
নিহোনিয়ামের সাথে সর্বাধিক জড়িত “বিক্রিয়া” হলো পারমাণবিক ফিউশনের মাধ্যমে এর সংশ্লেষণ, যেখানে পারমাণবিক নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, নিহোনিয়ামের আইসোটোপগুলি প্রাথমিকভাবে ত্বরান্বিত জিঙ্ক-৭০ ($^{70}$Zn) আয়ন দিয়ে বিসমুথ-২০৯ ($^{209}$Bi) এর একটি লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করে তৈরি করা হয়েছিল। এই প্রক্রিয়া নিউক্লিয়াসগুলির ফিউশন ঘটায়, যার পরে নিউট্রন নির্গমন হয়, একটি নিহোনিয়াম আইসোটোপ তৈরি করার জন্য। এর সংশ্লেষণের জন্য ব্যবহৃত একটি প্রতিনিধি পারমাণবিক বিক্রিয়া দেখানো যেতে পারে:
$^{209}{83}\text{Bi} + ^{70}{30}\text{Zn} \rightarrow ^{278}_{113}\text{Nh} + 1\text{n}$
এই সমীকরণটি একটি পারমাণবিক ফিউশন ঘটনাকে চিত্রিত করে, যেখানে বিসমুথ এবং জিঙ্কের নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে একটি অতিভারী নিহোনিয়াম নিউক্লিয়াস গঠন করে এবং একটি নিউট্রন নির্গত হয়। এটি একটি পারমাণবিক প্রক্রিয়া, রাসায়নিক বন্ধন গঠন বা ভাঙন জড়িত কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া নয়।