সিবর্গিয়াম পরিচিতি
সিবর্গিয়াম (Sg) একটি কৃত্রিম রাসায়নিক মৌল যার পারমাণবিক সংখ্যা ১০৬। এটি একটি ট্রান্সঅ্যাক্টিনাইড মৌল, অর্থাৎ এটি পর্যায় সারণীর অ্যাক্টিনাইড সিরিজের বাইরে পাওয়া যায়। এই মৌলটির নামকরণ করা হয়েছে আমেরিকান নিউক্লীয় রসায়নবিদ গ্লেন টি. সিবর্গের সম্মানে, যিনি অনেক ট্রান্সইউরেনিয়াম মৌল আবিষ্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। সিবর্গিয়াম অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় এবং পৃথিবীতে প্রাকৃতিকভাবে এটি পাওয়া যায় না। এটি গবেষণাগারে হালকা পরমাণুগুলিকে ভারী আয়ন দিয়ে আঘাত করে নিউক্লীয় ফিউশন প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি করা হয়। এর অত্যন্ত স্বল্প অর্ধ-জীবন মানে এটি খুব অল্প সময়ের জন্য বিদ্যমান থাকে, যা এর অধ্যয়নকে চ্যালেঞ্জিং করে তোলে।
পারমাণবিক গঠন: প্রোটন, নিউট্রন এবং ইলেকট্রন
সিবর্গিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা (Z) হলো ১০৬। এই সংখ্যাটি সরাসরি একটি সিবর্গিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসের মধ্যে প্রোটন সংখ্যা নির্দেশ করে।
- প্রোটন সংখ্যা: ১০৬
- ইলেকট্রন সংখ্যা: একটি নিরপেক্ষ পরমাণুতে, ইলেকট্রন সংখ্যা প্রোটন সংখ্যার সমান হয়। অতএব, একটি নিরপেক্ষ সিবর্গিয়াম পরমাণুতে ১০৬টি ইলেকট্রন থাকে।
- নিউট্রন সংখ্যা: একটি মৌলের আইসোটোপগুলির মধ্যে নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হয়। সিবর্গিয়াম একটি কৃত্রিম মৌল হওয়ায় এর একাধিক আইসোটোপ রয়েছে, যার সবকটিই তেজস্ক্রিয়। সবচেয়ে স্থিতিশীল পরিচিত আইসোটোপ হলো সিবর্গিয়াম-২৭1 (), যার ভর সংখ্যা (A) ২৭১।
- এর জন্য নিউট্রন সংখ্যা গণনা করতে: নিউট্রন = ভর সংখ্যা (A) - পারমাণবিক সংখ্যা (Z) নিউট্রন = ২৭১ - ১০৬ = ১৬৫
- সুতরাং, সিবর্গিয়াম-২৭1 এর একটি পরমাণুতে ১৬৫টি নিউট্রন থাকে। অন্যান্য আইসোটোপগুলিতে ভিন্ন নিউট্রন সংখ্যা থাকবে। উদাহরণস্বরূপ, এ ১৬০টি নিউট্রন থাকবে।
ইলেকট্রন বিন্যাস
ইলেকট্রন বিন্যাস একটি পরমাণু বা অণুর ইলেকট্রনগুলির পারমাণবিক বা আণবিক অরবিটালে বিতরণকে বর্ণনা করে। সিবর্গিয়ামের (Z=106) জন্য, আনুমানিক ভূমি-অবস্থার ইলেকট্রন বিন্যাস আউফবাউ নীতি, হুন্ডের নিয়ম এবং পাউলি বর্জন নীতি অনুসারে পারমাণবিক অরবিটালগুলি পূরণ করে নির্ধারিত হয়। উচ্চ পারমাণবিক সংখ্যার কারণে, আপেক্ষিক প্রভাবগুলি অরবিটালগুলির সঠিক ক্রম এবং স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে, তবে উচ্চ বিদ্যালয় স্তরের জন্য সাধারণত একটি সরলীকৃত আউফবাউ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
নিকটতম নিষ্ক্রিয় গ্যাসের কোর, যা রেডন (Rn, Z=86) থেকে শুরু করে, সিবর্গিয়ামের ইলেকট্রন বিন্যাস নিম্নরূপ ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়:
এই বিন্যাস নির্দেশ করে:
- রেডন পর্যন্ত ইলেকট্রনগুলি (৮৬টি ইলেকট্রন) ভিতরের শেলগুলি পূরণ করে।
- ১৪টি ইলেকট্রন সাবশেলে থাকে।
- ৪টি ইলেকট্রন সাবশেলে থাকে।
- ২টি ইলেকট্রন সাবশেলে থাকে।
এই বিন্যাস সিবর্গিয়ামকে পর্যায় সারণীর d-ব্লকে, নির্দিষ্টভাবে গ্রুপ ৬-এ, টাংস্টেন (W) এবং মলিবডেনাম (Mo) এর নিচে স্থাপন করে, যা অনুরূপ রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত করে।
যোজ্যতা ইলেকট্রন
যোজ্যতা ইলেকট্রন হলো পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ কক্ষে অবস্থিত ইলেকট্রন যা রাসায়নিক বন্ধনে অংশগ্রহণ করে। সিবর্গিয়ামের মতো অবস্থান্তর ধাতু এবং ট্রান্সঅ্যাক্টিনাইডগুলির জন্য, যোজ্যতা ইলেকট্রনগুলিতে সাধারণত সর্ববহিঃস্থ প্রধান শক্তি স্তরের s-অরবিটাল ইলেকট্রন এবং (n-1)d অরবিটাল ইলেকট্রন উভয়ই অন্তর্ভুক্ত থাকে।
ইলেকট্রন বিন্যাস থেকে:
- সর্ববহিঃস্থ প্রধান শক্তি স্তর হলো , যেখানে ইলেকট্রন রয়েছে।
- ইলেকট্রনগুলি (n-1) প্রধান শক্তি স্তরের একটি সাবশেলে রয়েছে যা d-ব্লক মৌলগুলির জন্য বন্ধনে সক্রিয়ভাবে জড়িত।
অতএব, সিবর্গিয়ামের যোজ্যতা ইলেকট্রনগুলি ইলেকট্রন এবং ইলেকট্রন হিসাবে বিবেচিত হয়।
- মোট যোজ্যতা ইলেকট্রন: ৪ ( থেকে) + ২ ( থেকে) = ৬
ছয়টি যোজ্যতা ইলেকট্রনের এই সংখ্যা পর্যায় সারণীর গ্রুপ ৬-এ সিবর্গিয়ামের অবস্থানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। অন্যান্য মৌলের সাথে সিবর্গিয়ামের মিথস্ক্রিয়া ঘটলে এই ইলেকট্রনগুলি রাসায়নিক বন্ধন গঠনে প্রধান অংশগ্রহণকারী, যদিও এর তেজস্ক্রিয়তা এবং চরম দুষ্প্রাপ্যতা মানে এই ধরনের মিথস্ক্রিয়াগুলি অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষাগার পরিবেশে অধ্যয়ন করা হয়।