টারবিয়াম কী?
টারবিয়াম, যার রাসায়নিক প্রতীক Tb, পর্যায় সারণীতে 65 পারমাণবিক সংখ্যা বিশিষ্ট একটি মৌল। এটি ল্যান্থানাইড নামে পরিচিত মৌলগুলির একটি বিশেষ শ্রেণীর অন্তর্গত, যেগুলিকে প্রায়শই “বিরল মৃত্তিকা মৌল” (rare earth elements) বলা হয়। এই নাম সত্ত্বেও, পৃথিবীর ভূত্বকে তারা অত্যন্ত বিরল নয়, তবে বিশুদ্ধ আকারে নিষ্কাশন করা কঠিন এবং ব্যয়বহুল। টারবিয়াম একটি নরম, রূপালী-সাদা ধাতু যা নমনীয় (malleable), অর্থাৎ এটিকে পাতলা পাতে পিটিয়ে তৈরি করা যায়, এবং প্রসার্য (ductile), অর্থাৎ এটিকে তারে রূপান্তরিত করা যায়।
আবিষ্কার এবং নামকরণের গল্প
কে এটি আবিষ্কার করেছেন?
টারবিয়ামের আবিষ্কারের কৃতিত্ব 1843 সালে সুইস রসায়নবিদ জ্যাঁ চার্লস গালিসার্ড দে মারিগনাককে দেওয়া হয়। তিনি ইট্রিয়া নামক আরেকটি বিরল মৃত্তিকা মৌলের একটি অপরিষ্কার নমুনা থেকে একটি নতুন যৌগ হিসাবে টারবিয়ামকে বিচ্ছিন্ন করতে সক্ষম হন। এটি একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ ছিল কারণ বিরল মৃত্তিকা মৌলগুলি প্রায়শই একসাথে থাকে এবং তাদের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যগুলি খুবB একই রকম হয়, যা তাদের পৃথক করা কঠিন করে তোলে।
নামের উৎস কী?
“টারবিয়াম” নামের একটি আকর্ষণীয় উৎস রয়েছে। এটি সুইডেনের ইটারবি গ্রামের নামে নামকরণ করা হয়েছে। এই ছোট গ্রামটি রসায়নে বেশ বিখ্যাত কারণ ইট্রিয়াম, এরবিয়াম এবং ইটারবিয়াম সহ বেশ কয়েকটি বিরল মৃত্তিকা মৌলও এর নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে। ইটারবির কাছে পাওয়া খনিজগুলিতে এই অনন্য মৌলগুলি প্রচুর পরিমাণে ছিল, যা তাদের আবিষ্কার এবং পরবর্তী নামকরণের দিকে পরিচালিত করেছিল।
টারবিয়াম সম্পর্কে দ্রুত তথ্য
- টারবিয়াম কক্ষ তাপমাত্রায় কঠিন এবং এর গলনাঙ্ক 1356 °C।
- বাতাসের সংস্পর্শে এলে এটি ধীরে ধীরে জারিত হয় এবং জলর সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন করে।
- এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার হলো ফ্লুরোসেন্ট ল্যাম্প এবং ক্যাথোড রে টিউব (CRT) ডিসপ্লেতে, যেখানে এটি উজ্জ্বল সবুজ আলো উৎপন্ন করে। এটি নির্দিষ্ট রঙের আউটপুট প্রয়োজন এমন প্রযুক্তির জন্য এটিকে মূল্যবান করে তোলে।
- টারবিয়াম মোনাজাইট (monazite) এবং বাস্টনাসাইট (bastnasite) এর মতো খনিজগুলিতে পাওয়া যায়। ভারতে, এই বিরল মৃত্তিকা-ধারণকারী খনিজগুলি কেরালা এবং ওডিশার মতো রাজ্যগুলির উপকূলীয় বালিতে পাওয়া যায়, যেখানে নিষ্কাশনের জন্য সেগুলিকে প্রক্রিয়াজাত করা হয়।
- এটি টারফেনল-ডি (Terfenol-D) নামক একটি সংকর ধাতুর একটি মূল উপাদান, যা উল্লেখযোগ্য ম্যাগনেটোস্ট্রিকশন (magnetostriction) প্রদর্শন করে। এর অর্থ হলো এটি চৌম্বক ক্ষেত্রে রাখলে এর আকৃতি পরিবর্তন করে, যা এটিকে সেন্সর, অ্যাকচুয়েটর এবং সোনার সিস্টেমে (sonar systems) কার্যকর করে তোলে।