ইটারবিয়াম বোঝা
ইটারবিয়াম, যার প্রতীক Yb, হলো একটি রাসায়নিক মৌল যার পারমাণবিক সংখ্যা ৭০। এটি একটি নরম, রূপালী-সাদা ধাতু যা ল্যান্থানাইড নামক মৌলগুলির একটি বিশেষ গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত, যাদেরকে প্রায়শই বিরল মৃত্তিকা মৌল বলা হয়। যদিও এই মৌলগুলিকে “বিরল” বলা হয়, তবে এদের নাম যেমনটা বোঝায় ততটা দুর্লভ নয়; তারা কেবল ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে এবং নিষ্কাশন করা কঠিন।
আবিষ্কার এবং নামকরণ
১৮৭৮ সালে জিন চার্লস গ্যালিসার্ড দে মারিগনাক নামে একজন সুইস রসায়নবিদ ইটারবিয়াম আবিষ্কার করেন। তিনি গ্যাডোলিনাইট নামক একটি খনিজ থেকে একটি নতুন উপাদান পৃথক করেন এবং এটিকে একটি নতুন মৌল হিসাবে চিহ্নিত করেন।
“ইটারবিয়াম” নামটি সুইডেনের ইটারবি নামক একটি ছোট গ্রাম থেকে এসেছে। এই গ্রামটি রসায়ন জগতে বিখ্যাত কারণ ইটারবিয়াম, ইট্রিয়াম, টারবিয়াম এবং এরবিয়াম সহ বেশ কয়েকটি বিরল মৃত্তিকা মৌল প্রথম সেখানে অবস্থিত একটি খনিতে পাওয়া খনিজ থেকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এটা সত্যিই অসাধারণ যে একটি ছোট গ্রাম পর্যায় সারণীতে চারটি ভিন্ন মৌলের নামকরণ করেছে।
ইটারবিয়াম সম্পর্কে কিছু দ্রুত তথ্য
- ইটারবিয়াম একটি তুলনামূলকভাবে নরম, নমনীয় এবং প্রসারণশীল ধাতু, যার অর্থ এটিকে সহজেই আকার দেওয়া এবং তারে রূপান্তরিত করা যায়।
- বাতাসের সংস্পর্শে এলে এটি ধীরে ধীরে অনুজ্জ্বল হয়ে যায় এবং জলের সাথে বিক্রিয়া করে, যা এর মাঝারি রাসায়নিক বিক্রিয়াশীলতা প্রমাণ করে।
- এর একটি আইসোটোপ, ইটারবিয়াম-১৭৬, কিছু বিশেষ পারমাণবিক ঘড়িতে ব্যবহৃত হয়, যা পরিচিত সবচেয়ে নির্ভুল সময়-গণনা যন্ত্রগুলির মধ্যে অন্যতম।
- ইটারবিয়াম ফাইবার অপটিক ক্যাবলে ব্যবহৃত হয়, যা উচ্চ-গতির ইন্টারনেট এবং টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কগুলির জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যার মধ্যে ভারতে দ্রুত প্রসারিত হওয়া নেটওয়ার্কগুলিও রয়েছে।
- এটি বিভিন্ন খনিজ পদার্থে, যেমন মোনাজাইট বালিতে সামান্য পরিমাণে পাওয়া যায়, যা কিছু উপকূলীয় অঞ্চলে, উদাহরণস্বরূপ ভারতের কেরালা উপকূল বরাবর পাওয়া যায়।