পারদের রাসায়নিক প্রকৃতি পরিচিতি
পারদ, যার প্রতীক Hg এবং যা কুইকসিলভার নামেও পরিচিত, এটি প্রমাণ তাপমাত্রা ও চাপে একটি ভারী, রূপালী-সাদা তরল ধাতু। এই অবস্থায় এর তরল অবস্থা এটিকে ধাতব উপাদানগুলির মধ্যে অনন্য করে তোলে। রাসায়নিকভাবে, পারদকে তুলনামূলকভাবে অপ্রতিক্রিয়াশীল ধাতু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি মহৎ ধাতুগুলির মতো বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে, ক্ষয় প্রতিরোধ করে এবং ক্ষার ধাতু বা ক্ষারীয় মৃত্তিকা ধাতুগুলির মতো অধিক প্রতিক্রিয়াশীল ধাতুগুলির তুলনায় অন্যান্য উপাদানের সাথে সহজে মিশ্রিত হয় না।
সাধারণ পদার্থের সাথে প্রতিক্রিয়াশীলতা
জলের সাথে প্রতিক্রিয়া
পারদ কোনো তাপমাত্রায় জল বা বাষ্পের সাথে প্রতিক্রিয়া করে না। এর কম প্রতিক্রিয়াশীলতার অর্থ হলো জলের সংস্পর্শে এটি অপরিবর্তিত থাকে, যা এটিকে থার্মোমিটার এবং ব্যারোমিটারের মতো যন্ত্রপাতিতে ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত করে তোলে যেখানে এটিকে বিভিন্ন পরিবেশগত পরিস্থিতিতে স্থিতিশীল থাকতে হয়।
বাতাসের সাথে প্রতিক্রিয়া
ঘরের তাপমাত্রায়, পারদ বাতাসের অক্সিজেনের সাথে প্রতিক্রিয়া করে না। এই নিষ্ক্রিয়তা এর স্থিতিশীলতায় অবদান রাখে। তবে, যদি এটি বাতাসের উপস্থিতিতে এর স্ফুটনাঙ্কের (প্রায় 357 °C) উপরে তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করা হয়, তবে এটি অক্সিজেনের সাথে ধীরে ধীরে বিক্রিয়া করে মার্কারি (II) অক্সাইড (HgO) তৈরি করে, যা একটি লাল বা কমলা কঠিন পদার্থ। এই মার্কারি (II) অক্সাইড 500 °C এর উপরে অতিরিক্ত তাপ প্রয়োগে আবার মৌল পারদ এবং অক্সিজেনে বিয়োজিত হতে পারে।
স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা দিক
বিষাক্ততা
পারদ এবং এর যৌগগুলি মানুষ এবং অন্যান্য জীবন্ত প্রাণীর জন্য অত্যন্ত বিষাক্ত। পারদ বাষ্প শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে, পারদ-দূষিত খাবার (যেমন দূষিত জলের মাছ) গ্রহণের মাধ্যমে বা ত্বকের সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে পারদের সংস্পর্শে আসা যেতে পারে। একবার শরীরে প্রবেশ করলে, এটি জমা হতে পারে এবং কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র, কিডনি এবং লিভারকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ভারতে, কিছু শিল্প বর্জ্য বা আয়ুর্বেদিক প্রস্তুতির মতো ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে ঐতিহাসিক ব্যবহারের কারণে পারদ দূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, যার জন্য সতর্ক নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন।
তেজস্ক্রিয়তা
প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত পারদ তেজস্ক্রিয় নয়। এটি বেশ কয়েকটি স্থিতিশীল আইসোটোপ নিয়ে গঠিত। যদিও পারদের কিছু কৃত্রিম আইসোটোপ তেজস্ক্রিয় হতে পারে, তবে এগুলি প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায় না এবং সাধারণত নির্দিষ্ট গবেষণা বা চিকিৎসা প্রয়োগের জন্য গবেষণাগারে তৈরি করা হয়।
দাহ্যতা
পারদ দাহ্য নয়। একটি ধাতু হিসাবে, এটি জ্বলে না বা জ্বলনে সহায়তা করে না।
উল্লেখযোগ্য রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ার উদাহরণ
পারদের অন্যতম বৈশিষ্ট্যপূর্ণ রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া হলো অ্যামালগাম গঠনের ক্ষমতা। একটি অ্যামালগাম হলো পারদের সাথে অন্য কোনো ধাতুর সংকর ধাতু। পারদ সহজেই সোনা, রূপা এবং জিঙ্ক সহ অনেক ধাতুর সাথে অ্যামালগাম তৈরি করে। এই বৈশিষ্ট্যটি ঐতিহাসিক এবং বাণিজ্যিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ, ভারতের কিছু অংশে দেখা কারিগরী স্বর্ণ খনন পদ্ধতিতে, আকরিক থেকে সোনা নিষ্কাশনের জন্য পারদ ব্যবহার করা হয়। যখন পারদকে গুঁড়ো করা স্বর্ণ-বহনকারী আকরিকের সাথে মেশানো হয়, তখন এটি বিশেষভাবে সোনাকে দ্রবীভূত করে, একটি সোনা-পারদ অ্যামালগাম তৈরি করে। এই অ্যামালগামকে তারপর উত্তপ্ত করে পারদ বাষ্পীভূত করা হয়, যা বিশুদ্ধ সোনা রেখে যায়। তবে, বিষাক্ত পারদ বাষ্প নির্গত হওয়ার কারণে এই প্রক্রিয়াটি পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক।