নাইট্রোজেন পরিচিতি
নাইট্রোজেন, যা N প্রতীক এবং পারমাণবিক সংখ্যা 7 দ্বারা পরিচিত, একটি মৌলিক রাসায়নিক উপাদান। এটি পর্যায় সারণীর 15 নং গ্রুপের একটি অধাতু হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ, যা প্নিকটোজেন নামেও পরিচিত। এর মৌলিক রূপে, এটি একটি দ্বি-পরমাণু অণু (N₂) হিসাবে বিদ্যমান। নাইট্রোজেন উল্লেখযোগ্যভাবে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান, যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের প্রায় 78% গঠন করে, যা ভারত এবং বিশ্বব্যাপী একই রকম।
নাইট্রোজেনের ভৌত বৈশিষ্ট্য
ঘরের তাপমাত্রায় ভৌত অবস্থা, রঙ এবং গঠন
প্রমিত বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা এবং চাপে (ঘরের তাপমাত্রা), নাইট্রোজেন একটি গ্যাস। এই গ্যাসীয় অবস্থায়, এটি সম্পূর্ণ বর্ণহীন, গন্ধহীন, এবং স্বাদহীন। এর গ্যাসীয় প্রকৃতির কারণে, ঘরের তাপমাত্রায় মৌলিক নাইট্রোজেনের প্রচলিত অর্থে কোনো সুস্পষ্ট গঠন (texture) থাকে না। এটি মুক্ত-চলমান অণু হিসাবে উপলব্ধ স্থান দখল করে বিদ্যমান। এই বৈশিষ্ট্যটি ভারত সহ সকল বাসিন্দাদের দ্বারা শ্বাস নেওয়া বাতাসে এর ব্যাপক উপস্থিতির সুযোগ করে দেয়।
গলনাঙ্ক এবং স্ফুটনাঙ্ক
নাইট্রোজেন অত্যন্ত নিম্ন গলনাঙ্ক এবং স্ফুটনাঙ্ক প্রদর্শন করে, যা এর দ্বি-পরমাণু অণুগুলির মধ্যে দুর্বল আন্তঃআণবিক বল (লন্ডন ডিসপারশন ফোর্স) প্রতিফলিত করে।
- গলনাঙ্ক: যে তাপমাত্রায় কঠিন নাইট্রোজেন তরল নাইট্রোজেনে রূপান্তরিত হয়, তা প্রায় -210 °C।
- স্ফুটনাঙ্ক: যে তাপমাত্রায় তরল নাইট্রোজেন গ্যাসীয় নাইট্রোজেনে রূপান্তরিত হয়, তা প্রায় -196 °C।
এই নিম্ন তাপমাত্রাগুলির অর্থ হল, নাইট্রোজেনকে এর তরল বা কঠিন রূপে দেখতে হলে এটিকে উল্লেখযোগ্যভাবে ঠান্ডা করতে হবে। তরল নাইট্রোজেন বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে ভারতে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে ক্রায়োপ্রিজারভেশন এবং বিতরণের আগে খাদ্য পণ্যের শেল্ফ লাইফ বাড়ানোর জন্য ফ্ল্যাশ-ফ্রিজিং অন্তর্ভুক্ত।
দ্রবণীয়তা এবং ঘনত্ব
নাইট্রোজেন গ্যাস পানিতে অল্প দ্রবণীয়। এই কম দ্রবণীয়তা জলজ জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পানিতে দ্রবীভূত নাইট্রোজেন বিভিন্ন জৈব-রাসায়নিক চক্রে ভূমিকা পালন করে। ঘনত্বের দিক থেকে, গ্যাসীয় নাইট্রোজেন বাতাসের চেয়ে সামান্য কম ঘন। এই বৈশিষ্ট্যটি বাতাসের একটি মিশ্রণ হওয়ার কারণে ঘটে, যেখানে মূলত নাইট্রোজেন এবং অক্সিজেন থাকে, এবং অক্সিজেন নাইট্রোজেনের চেয়ে সামান্য বেশি ঘন।